মেনু নির্বাচন করুন

শাহ মোহছেন আউলিয়া(র:)এর রওজা শরীফ।

ইতিহাস

 

চট্টগ্রামের আনোয়ারা বটতলীতে উপমহাদেশের অন্যতম অলিকুলের শিরুমনি বার আউলিয়ার সম্রাট হযরত শাহ মোহছেন আউলিয়া (র) মাজার 

কথিত আছে হযরত বাবা বদর আউলিয়া ও বাবা হযরত শাহ মোহছেন আউলিয়া (রহ.) একসাথে চট্টগ্রামে আগমন করেছিলেন। আধ্যাত্মিক রূহানিয়াতের মধ্যে মামা ভাগিনার এক গভীর সম্পর্ক রয়েছে। রুহানিয়তের সফরে মামা ভাগিনার সফর সেই আদিকাল থেকে প্রচলিত।

হযরত মুসা (আ.) হযরত খিজির (আ.) এর নিকট তরিকতের সফরে যাওয়ার সময় তার ভাগ্নে হযরত ইউসা ইবনে নুহ (আ.) ছিলেন। এভাবে রুহানিয়তের ধারা প্রচলিত রয়েছে।

হযরত বাবা মোহছেন আউলিয়া (রহ.) তাঁর মামা হযরত বদর আউলিয়া (রহ.)’র পিছনে সাগর পথে রওয়ানা দিয়াছেন। সেই নদী ও সাগর পথে তাদের বহনকারী কিস্তি বা জাহাজ আর কিছু নয় বরং তাদের ব্যবহৃত পাথর ছিল যা বর্তমানে তাদের মাজার শরীফে বিদ্যমান আছে। মাহাবুবে রব্বানী গাউছে ছমদানি হযরত শাহসূফি ছৈয়দ বাবা মোহছেন আউলিয়া (রহ.) ৮৮৬ হিজরী ৭২ বাংলা ১৪৬৬ সনে ১২ রবিউল আউয়াল জন্ম গ্রহণ করেন।

চট্টগ্রামে আগমনঃ বাবাজান কেবলা হযরত শাহ মোহছেন আউলিয়া (রহ.) কখন এবং কিভাবে বাংলাদেশে আগমন করেন তার ইতিবৃত্ত জানা যায়নি।

কিংবদন্তিতে প্রকাশ পায় শত বৎসর পূর্বে তার
শ্রদ্ধেয় মামা হযরত বদর আউলিয়া (রহ.) সহ প্রথম দিল্লিতে পদার্পণ করেন।

 

সেখান থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলা হয়ে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার ঝিওরী গ্রামের শংখ নদীর তীরে আস্তানা স্থাপন করেন। কোন একদিন এই নিঝুম নির্জন গ্রামের মাঠে এক বোবা ছেলে গরু ছাগল ছড়াচ্ছিল। বাবাজান কেবলা ঐ ছেলেকে নিজের হাতে ডাকলেন তার সাথে কথা বলতে গিয়ে জানতে পারে ছেলেটি বোবা।

এ অবস্থায় বাবাজান কেবলা ঐ বোবা ছেলের মুখে তার পবিত্র হাত মোবারক রাখলেন তখন সাথে সাথে ছেলেটি কথা বলতে আরম্ভ করল। বাজাজান কেবলা ছেলেটিকে বলল যাও তোমার মাতাপিতাকে ডেকে নিয়ে আস। সে তার বাড়িতে গিয়ে সমস্ত ঘটনা তার মাতা-পিতাকে বললে তখন মাতা-পিতা ও পাড়া প্রতিবেশীরা সবাই বাবাজান কেবলার কাছে এসে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন এবং দোয়া প্রার্থনা করেন। বাবাজান কেবলা ঐস্থানে অবস্থান করার ইচ্ছা প্রকাশ করলে তখন তারা একখানা ঘর তৈরি করিয়া দেন।

বাবাজান কেবলা দীর্ঘদিন ধরে এবাদত রেয়াজতে মগ্ন ছিলেন এভাবে ইবাদত করতে করতে অন্তিম সময় ঘনিয়ে এলে ৯৮৫ হিজরী ৯৭১ বাংলা ৬ আষাঢ় ১৫৬৫ সনে তিনি আল্লাহতায়ালার সান্নিধ্যে স্থায়ীভাবে জান্নাতবাসী হন। ইন্না….রাজেউন।

তিনি যে ঘরে অবস্থান করতেন ঐ হুজরা শরীফে শংখ নদীর পাড়ে তাকে দাফন করা হয়। এভাবে কয়েক বৎসর অতিবাহিত হওয়ার পর শংখ নদীর ভাঙনে বাবাজান কেবলার পবিত্র মাজার শরীফ ভাঙন দেখা দিলে একদিন পটিয়া উপজেলা বড় উঠান গ্রামের তৎকালীন এক মুসলিম জমিদারকে স্বপ্নে নির্দেশ দিয়ে বললেন আমার মাজার শংখ নদীর ভাঙনে ভেঙে তুমি আমার কফিনখানি বটতলী গ্রামে দাফন কর। এ প্রভাবশালী ব্যক্তি বাবাজানের স্বপ্নের নির্দেশকে গুরুত্ব না দেয়ায় ক্রমান্বয়ে তার জমিদারীর অবণতি ঘটতে থাকে।

তৎসময়ে বর্তমানে আনোয়ারা উপজেলা বটতলী গ্রামের তৎকালীন জনৈক বুজুর্গ ব্যক্তিকে বাবাজান কেবলা (রহ.) স্বপ্নে একই নির্দেশ দিয়ে বলেন যে, তোমরা ঝিওরী গ্রামের শংখ নদীর পাড়ে আমার কবর ভাঙ্গা অবস্থায় দেখবে, তার পার্শ্বে একটি পাথরও দেখবে। তোমরা আমার কফিন ও পাথরখানা নিয়ে বটতলী গ্রামের যেখানে সুবিশাল একটি বটগাছ এবং উলুবন সমৃদ্ধ জায়গা আছে সে স্থানে দাফন করবে।

তৎকালীন ঐ জনৈক বুজুর্গ ব্যক্তি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা স্বপ্নের উক্ত আদেশ পেয়ে নির্দিষ্ট সময়ে ঝিওরী গ্রামের শংখ নদীর তীরে গিয়ে বাবাজান কেবলার পবিত্র কফিন মোবারক স-সম্মানে এনে দাফন করেন এবং তাঁহার ব্যবহৃত পাথরখানা বর্তমান মাজারের বারান্দায় সংরক্ষণ করেন।

দেশ বিদেশ হইতে হাজার হাজার আল্লাপ্রেমিক নবীপ্রেমিক এবং ওলিপ্রেমিক জিয়ারতের উদ্দেশে মাজার শরীফে আসেন। প্রত্যেক বছর আষাঢ় মাসের ৬ তারিখ বাবা হযরত শাহ মোহছেন আঊলিয়া (র) এর ওরশ অনুষ্টিত হই।

আগামী ২০শে জুন ২০১৬ রোজ রবিবার বাবা হযরত শাহ মোহছেন আউলিয়া রহঃ এর ওরশ অনুষ্ঠিত হবে।


Share with :

Facebook Twitter